শনিবার যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ডজন মানুষকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে নির্বাসিত করেছে—আফ্রিকা মহাদেশের মাঝখানে অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, যার রাজধানী বাংগুই কাবুল, তেহরান, কাঠমান্ডু বা মানাগুয়া থেকে অনেক দূরে। আইনজীবী আলমা ডেভিড এবং অধিকারকর্মী সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট-এর মতে, বিমানের যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন বিশের কোঠার শুরুর দিকের এক আফগান ব্যক্তি, যার ভাইয়েরা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন

এই শেষ তথ্যটিই ঘটনাটির মূল বিষয়। তার আইনজীবী এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের সংগৃহীত প্রকাশ্য নথি অনুযায়ী, ওই তরুণ আফগানিস্তানে আমেরিকার যুদ্ধের সঙ্গে অপরিচিত কেউ ছিলেন না। তার পরিবার ইতিমধ্যেই ওই সম্পর্কের মূল্য দিয়েছিল। তালেবানের নিপীড়নের আশঙ্কায় একজন মার্কিন বিচারক তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো আটকে দিয়েছিলেনএপি-পর্যালোচিত আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ওই মার্কিন কাজের কারণে তার পরিবার তালেবানের হুমকি পেয়েছিল। এক ভাই আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে কাজ করার পর এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। আরেকজন, মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট, তালেবানের হাতে নিহত হন

তবু তাকে পাঠানো হয়েছে—নিজ দেশে নয়, কারণ আদালত সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল; বরং মধ্য আফ্রিকায়, এমন একটি ফ্লাইটে, যা হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের সাভি আরভে-র মতে বাংগুইয়ে অবতরণ করে এবং তাতে ছিল ১২ জন আফগান, আটজন ইরানি, পাশাপাশি নেপাল ও নিকারাগুয়ার নাগরিকরা। অধিকারকর্মীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায়ই গোপন তৃতীয়-দেশের চুক্তি ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষকে তাদের নিজস্ব দেশ নয়—এমন প্রায় দুই ডজন দেশে পাঠিয়েছে—দেশে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি বিকল্প ব্যবস্থা। শনিবারের ফ্লাইটটি ছিল জুনের পর CAR-এ দ্বিতীয়

ফেরত পাঠানো, কিন্তু প্রত্যাবাসন নয়

সাধারণ আমেরিকান ব্যবহারে নির্বাসন বলতে কাউকে তার দেশে ফেরত পাঠানো বোঝায়। শব্দটির সঙ্গে একটি ভূগোল জড়িত: নাগরিকত্বের দেশ, পাসপোর্টে লেখা স্থান, এমন একটি বিমানবন্দর যার সাইনবোর্ডের ভাষা নির্বাসিত ব্যক্তি আগে থেকেই জানেন। শনিবারের অভিযানে তা করা হয়নি। কয়েক ডজন মানুষকে পাঠানো হয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে—যে দেশটি আফগানিস্তান নয়, ইরান নয়, নেপাল নয়, নিকারাগুয়াও নয়।

এই পার্থক্যটিই নীতির বিষয়। আলমা ডেভিড এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট যাত্রীদের মধ্যে একজন বিশের কোঠার শুরুর দিকের আফগান ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। তালেবানের নিপীড়নের আশঙ্কায় একজন ফেডারেল বিচারক ইতিমধ্যেই তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো আটকে দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাকে কাবুলগামী বিমানে তুলতে না পারে, তাহলে প্রশাসনের তৈরি করা কাঠামো অনুযায়ী বাকি বিকল্প ছিল তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাখা অথবা তাকে নিতে ইচ্ছুক অন্য কোনো সরকার খুঁজে বের করা। বাংগুই ছিল দ্বিতীয় বিকল্প।

হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের সাভি আরভে বলেন, বাংগুইয়ে অবতরণ করা ফ্লাইটটিতে ছিল ১২ জন আফগান এবং আটজন ইরানি, পাশাপাশি নেপাল ও নিকারাগুয়ার নাগরিকরা। তার বর্ণনা অনুযায়ী, যাত্রীতালিকাটি একই সঙ্গে একাধিক সংকটের মানচিত্র: এমন আফগানরা, যাদের দেশ আবার তালেবানের অধীনে; এমন ইরানিরা, যাদের সরকার ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ; এবং এমন নেপালি ও নিকারাগুয়ানরা, যাদের একই বিমানে উপস্থিতি দেখায় যে জাতীয়তার সঙ্গে মিলিয়ে গন্তব্য বেছে নেওয়া হয়নি। গন্তব্য বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ সেটি তাদের গ্রহণ করবে।

অধিকারকর্মীরা এটিকে একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন। যারা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষিত, আইনি দিক থেকে তাদের পালিয়ে আসা দেশে ফেলে দেওয়া যায় না। তবে অন্য কোনো সরকার রাজি হলে তাদের অন্য কোথাও পাঠানো যায়। অধিকারকর্মীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায়ই গোপন তৃতীয়-দেশের চুক্তি ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষকে তাদের নিজস্ব দেশ নয়—এমন প্রায় দুই ডজন দেশে পাঠিয়েছে। শনিবার ছিল সেই ব্যবস্থার আরও একটি কার্যক্রম। একই সঙ্গে এটি ছিল নির্দিষ্টভাবে জুনের পর CAR-এ এমন দ্বিতীয় ফ্লাইট

পরিবারটির কথা আদালত আগেই জানত

আফগান যাত্রীটি কোনো কাল্পনিক চরিত্র নন। তিনি বিশের কোঠার শুরুর দিকের একজন ব্যক্তি, যাকে তার আইনজীবী আলমা ডেভিড এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট শনাক্ত করেছে। তার সম্পর্কে জানা তথ্যের বড় অংশ এসেছে এপি-পর্যালোচিত আদালতের নথি এবং মার্কিন বিচারকের সেই সিদ্ধান্ত থেকে, যেখানে আফগানিস্তানের ঝুঁকি নিয়ে ইতিমধ্যেই রায় দেওয়া হয়েছিল।

ওই নথিতে বলা হয়েছে, তার ভাইদের মার্কিন কাজের কারণে তার পরিবার তালেবানের হুমকি পেয়েছিল। তালেবান-শাসিত আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা কোনো অস্পষ্ট সামাজিক তথ্য নয়। এটি মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার একটি মানদণ্ড। এক ভাই আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে কাজ করেছিলেন এবং এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। আরেকজন ছিলেন মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট এবং তালেবানের হাতে নিহত হন। জীবিত ভাইয়ের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং নিহত ভাইয়ের মার্কিন প্রশিক্ষণ কোনো অলংকারমূলক বিবরণ নয়। এগুলোই সেই কারণ, যার ভিত্তিতে একজন বিচারক আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোকে সাধারণ নির্বাসন নয়, বরং নিপীড়নের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।

ডেভিড, হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বর্ণিত নথি অনুযায়ী, আদালত তাকে বাংগুইয়ে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। আদালত তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো আটকে দিয়েছিল। এটি আশ্রয় মঞ্জুর করার চেয়ে সংকীর্ণ এবং নীরবতার চেয়ে বিস্তৃত আদেশ। এর অর্থ: সেখানে নয়। তবে নিজে থেকেই এর অর্থ এই নয়: কোথাও নয়

এই দুই বাক্যের মধ্যকার ফাঁকেই তৃতীয়-দেশে নির্বাসনের জায়গা তৈরি হয়। আইনি সুরক্ষা যদি refoulement—আশঙ্কাজনক ক্ষতির স্থানে ফেরত পাঠানো—এর বিরুদ্ধে হয়, তাহলে যে সরকার ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে দিতে চায়, সে তৃতীয় কোনো মানচিত্র খুঁজবে। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র হলো সেই তৃতীয় মানচিত্র। এটি তালেবানের দেশ নয়। এটি সেই আফগান ন্যাশনাল আর্মি-র সাবেক সদস্যের দেশও নয়, যিনি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন; আর প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, এটি এমন কোনো স্থানও নয় যার সঙ্গে মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট-এর ভাইয়ের কোনো সম্পর্ক আছে।

কাবুল নয়, বাংগুই

বিমানের বাংগুইয়ে অবতরণের সময় কারা ছিলেন, তার উৎস হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট-এর সাভি আরভে। তিনি ১২ জন আফগান গুনেছেন। তিনি আটজন ইরানি গুনেছেন। তিনি বলেছেন, সেখানে নেপাল ও নিকারাগুয়ার নাগরিকরাও ছিলেন। নির্বাসনের সামগ্রিক আকার হিসেবে যে কয়েক ডজন মানুষের কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে চিত্রটি দাঁড়ায়—একটি আফ্রিকান রাজধানীতে বিভিন্ন জাতীয়তার মানুষকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বাংগুই হলো মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। আফগানদের পুনর্বাসনের প্রচলিত কেন্দ্র এটি নয়। এই ঘটনার প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, তরুণটির পরিবারও স্থানটি বেছে নেয়নি। পছন্দটি করা হয়েছে ওয়াশিংটনে, এমন একটি ট্রাম্প প্রশাসন-এর নীতির অধীনে, যা অধিকারকর্মীদের মতে প্রায়ই গোপন তৃতীয়-দেশের চুক্তির ওপর নির্ভর করে।

এই বর্ণনায় গোপনীয়তা কোনো অলংকার নয়। চুক্তিগুলো যদি প্রায়ই গোপন হয়, তাহলে যাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাদের আইনজীবী এবং যারা ইতিমধ্যে নিপীড়নের বিষয়ে রায় দিয়েছেন সেই আদালতগুলো—গ্রহণকারী দেশের আশ্বাস যাচাই করার সময়মতো সুযোগ নাও পেতে পারে। আলমা ডেভিড বলতে পেরেছেন যে তার মক্কেল নির্বাসিতদের মধ্যে ছিলেন। একজন মার্কিন বিচারক ইতিমধ্যেই বলতে পেরেছিলেন যে আফগানিস্তান অতিরিক্ত বিপজ্জনক। কিন্তু আইনজীবীর প্রকাশ্য বক্তব্য বা এপি-পর্যালোচিত আদালতের নথি—কোনোটিই এমন কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত দেয়নি যে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র নিরাপদ, উপযুক্ত, এমনকি যাত্রীর কাছে কোনো অর্থবহ পরিচিত স্থান।

আরভের বর্ণনা অনুযায়ী, ফ্লাইটের যাত্রীতালিকাও এই দাবি দুর্বল করে যে সাংস্কৃতিক বা ভাষাগত মিলের কারণে বাংগুই বেছে নেওয়া হয়েছিল। বারোজন আফগান এবং আটজন ইরানি সেখানে অবতরণ করলেই মধ্য আফ্রিকান হয়ে যায় না। নেপাল ও নিকারাগুয়ার নাগরিকরাও হয় না। তাদের অভিন্ন বৈশিষ্ট্য উৎস নয়। বৈশিষ্ট্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সরিয়ে দিতে চেয়েছিল এবং এমন একজন অংশীদার পেয়েছিল যে বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দিয়েছে।

একটি বিকল্প ব্যবস্থার বিস্তৃত ধারা

অধিকারকর্মীরা শনিবারের ঘটনাকে বৃহত্তর একটি কাঠামোর মধ্যে দেখছেন। তারা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায়ই গোপন তৃতীয়-দেশের চুক্তি ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষকে তাদের নিজস্ব দেশ নয়—এমন প্রায় দুই ডজন দেশে পাঠিয়েছে। হাজার হাজার শব্দটি এই একটি বিমানের যাত্রীসংখ্যার আনুমানিক হিসাব নয়। এটি কর্মসূচিটির কথিত পরিসর। প্রায় দুই ডজন দেশ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সমার্থক নয়। এটি নেটওয়ার্কটির কথিত বিস্তার।

এই ব্যবহারে বিকল্প ব্যবস্থা হলো একটি আইনি নকশা। মার্কিন ও আন্তর্জাতিক শরণার্থী নীতিতে নিপীড়নের স্থানে ফেরত পাঠানোকে পৃথক ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদি কোনো মার্কিন বিচারক তালেবানের নিপীড়নের আশঙ্কায় কাউকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো আটকে দেন, তাহলে প্রশাসন সেই আদেশ অমান্য না করে তাকে কাবুলগামী বিমানে তুলতে পারে না। তবে অধিকারকর্মীদের নীতিবিষয়ক বর্ণনা সঠিক হলে, এমন তৃতীয় কোনো দেশ খুঁজে নিতে পারে যে তাকে অন্য কারও সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করবে। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এখন অন্তত দুবার সেই ভূমিকা গ্রহণ করেছে: শনিবারের ফ্লাইটটি ছিল জুনের পর CAR-এ দ্বিতীয়

দ্বিতীয় ফ্লাইটের তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ। একবার অবতরণকে পরীক্ষা, এককালীন ঘটনা বা কূটনৈতিক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা বলা যেতে পারে। জুন থেকে শনিবার পর্যন্ত সময়ে দ্বিতীয়বার অবতরণ একটি রুটের ইঙ্গিত দেয়। রুট ব্যবহার করা হয়। এই দিনের রুটে থাকা মানুষগুলো—বিমানের কয়েক ডজন যাত্রীর মধ্যে ১২ জন আফগান, আটজন ইরানি, এবং নেপালনিকারাগুয়ার অন্যরা—হলো সেই রুটের মানবিক বিষয়বস্তু।

হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট কোনো সরকারি সংস্থা নয়। এটি সাভি আরভে-র মাধ্যমে বাংগুইয়ে অবতরণ এবং আলমা ডেভিড-এর সঙ্গে আফগান যাত্রীর বিষয়ে কথা বলা একটি অধিকারকর্মী সংগঠন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস কেবল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পুনরাবৃত্তি না করে আদালতের নথি পর্যালোচনা করেছে। বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নথিগুলোই স্বাধীন লিখিত প্রমাণ: ওই মার্কিন কাজের কারণে পরিবারের ওপর তালেবানের হুমকি; আফগান ন্যাশনাল আর্মি-তে কাজ করা এক ভাই এখন যুক্তরাষ্ট্রে; এক ভাই ছিলেন মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট এবং তালেবানের হাতে নিহত; এবং একজন বিচারক এসব তথ্যকে আফগানিস্তানকে যাত্রাপথের বাইরে রাখার কারণ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।

সুরক্ষার অর্থ কী ছিল, আর কী ছিল না

তরুণটির বয়স বিশের কোঠার শুরুর দিক। তার আইনজীবী এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের দেওয়া এই বয়স তাকে সেই প্রজন্মে স্থান দেয়, যারা আফগানিস্তানে আমেরিকার যুদ্ধের অবসান এবং তালেবানের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের সময় বড় হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে নির্বাসিত হওয়ার মতো বয়স তার হয়েছে। আবার যে ভাইয়েরা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন, সহযোগিতাকারী প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতোও তিনি তরুণ।

অধিকারকর্মীরা যে অর্থে দেশে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষার কথা বলেন, তা হলো ন্যূনতম সুরক্ষা। তালেবানের নিপীড়নের আশঙ্কার প্রমাণ যথেষ্ট শক্তিশালী হলে এবং এপি-পর্যালোচিত আদালতের নথিতে মার্কিন কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত তালেবানের হুমকি দেখা গেলে আদালত যে আদেশ দিতে পারে, এটি সেই সুরক্ষা। শনিবারের ঘটনায় এটি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার ছিল না। এটি আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে কাজ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভাইয়ের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসাও ছিল না। এটি মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট হয়ে তালেবানের হাতে নিহত ভাইয়ের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণও নয়।

এটি একটি নিষেধাজ্ঞা, যার মধ্যে একটি ফাঁক রয়েছে। সেই ফাঁকের নাম বাংগুই।

আলমা ডেভিড এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট আফগান ব্যক্তিটিকে প্রকাশ্য নথিতে তুলে ধরেছে, যাতে ফাঁকটির একটি মুখ থাকে: বিশের কোঠার শুরুর দিকের বয়স, আমেরিকার যুদ্ধে যুক্ত ভাইয়েরা, বিচারকের নিষেধাজ্ঞা, এবং তৃতীয়-দেশে অবতরণ। সাভি আরভে বিমানের বাকি যাত্রীদেরও নথিবদ্ধ করেছেন, যাতে ফাঁকটির একটি যাত্রীসংখ্যা থাকে: ১২ জন আফগান, আটজন ইরানি, নেপাল ও নিকারাগুয়ার নাগরিকরা, এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো কয়েক ডজন মানুষের অংশ হিসেবে। এরপর অধিকারকর্মীরা ফাঁকটিকে একটি ব্যবস্থার মধ্যে বসিয়েছেন: প্রায়ই গোপন তৃতীয়-দেশের চুক্তি, হাজার হাজার মানুষ, তাদের নিজস্ব দেশ নয়—এমন প্রায় দুই ডজন দেশ, দেশে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষিত মানুষের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা, এবং জুনের পর CAR-এ দ্বিতীয় ফ্লাইট।

এসবের কোনোটি বোঝাতে নতুন উদ্ধৃতির প্রয়োজন নেই। নথিতে থাকা ব্যক্তিরা হলেন আলমা ডেভিড, সাভি আরভে, হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট, একজন নাম প্রকাশ না করা মার্কিন বিচারক, আদালতের নথি পর্যালোচনাকারী অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, চুক্তিগুলোর প্রণেতা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন, এবং নাম প্রকাশ না করা আফগান ব্যক্তি ও তার ভাইয়েরা। নথিতে থাকা সংখ্যাগুলো হলো কয়েক ডজন, বিশের কোঠার শুরুর দিক, ১২, আট, হাজার হাজার, প্রায় দুই ডজন, এবং দ্বিতীয়। নথিতে থাকা স্থানগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, বাংগুই, নেপাল, নিকারাগুয়া, এবং ইরানের অন্তর্নিহিত ভূগোল। নথিতে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তালেবান, মার্কিন সামরিক বাহিনী, এবং আফগান ন্যাশনাল আর্মি

জুনের পর দ্বিতীয় ফ্লাইট

শনিবার প্রথমবার ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে একই করিডরটি ইতিমধ্যে জুনের পর ব্যবহার করা হয়েছিল। অধিকারকর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, এটি ছিল এমন দ্বিতীয় ফ্লাইট। বাংগুইকে গ্রহণস্থল হিসেবে খুলে দেওয়া কূটনৈতিক ব্যবস্থা তখনও চালু ছিল। যে আইনি তত্ত্বে তৃতীয় দেশকে নিজ দেশের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তা প্রত্যাহার করা হয়নি।

এই ধারাবাহিকতাই সংবাদের ভেতরের সংবাদ। ১২ জন আফগান, আটজন ইরানি, এবং নেপাল ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করে কয়েক ডজন মানুষকে একবারের জন্য স্থানান্তর করলেও আলমা ডেভিড এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট যে প্রশ্ন তুলছে—বিশের কোঠার শুরুর দিকের এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে, যাকে একজন বিচারক তালেবানের কাছে পাঠাতে চাননি—সেসব প্রশ্ন উঠতই। দ্বিতীয় স্থানান্তর বলছে, প্রশ্নগুলো বিমানবন্দর বন্ধ করতে পারেনি।

এই বিবরণের জন্য সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন CAR-এর ব্যবস্থার পূর্ণ পাঠ প্রকাশ করেনি। অধিকারকর্মীরা এ ধরনের চুক্তিকে প্রায়ই গোপন বলে অভিহিত করেন। গ্রহণকারী রাষ্ট্র খুঁজতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া একটি সরকারের জন্য গোপনীয়তা উপকারী। কিন্তু কোনো ক্লায়েন্ট রাত নামার সময় কোথায় থাকবে, তা আদালতকে জানানোর চেষ্টা করা আইনজীবীর জন্য এটি ব্যয়বহুল। শনিবারের মধ্যে ডেভিডের মক্কেল এমন অবস্থায় আর ছিলেন না যেখানে আফগানিস্তানে পাঠানোর নিষেধাজ্ঞাকে নির্বাসনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলে ভুল করা যায়। তিনি বাংগুইয়ে ছিলেন, অথবা এমন একটি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দর থেকে যাওয়ার পথে ছিলেন, যে রাষ্ট্রটি তার নিজের নয়।

যে ভাই আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে কাজ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, এই তথ্য অনুযায়ী তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছেন। যে ভাই ছিলেন মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট, তিনি তালেবানের হাতে নিহত হয়ে মৃত। যে পরিবার ওই মার্কিন কাজের কারণে তালেবানের হুমকি পেয়েছিল, তারা এমনই একটি পরিবার, যাকে মার্কিন বিচারক কাবুলের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিলেন। তরুণটি সেই ব্যক্তি, যিনি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষিত ছিলেন এবং তার বদলে মধ্য আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছে।

শনিবারের ঘটনায় যা নথিবদ্ধ হলো

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ডজন মানুষকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে নির্বাসিত করেছে। আলমা ডেভিড এবং হিউম্যান রাইটস ফার্স্ট বলেছে, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন বিশের কোঠার শুরুর দিকের এক আফগান ব্যক্তি, যার ভাইয়েরা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেনতালেবানের নিপীড়নের আশঙ্কায় একজন মার্কিন বিচারক তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো আটকে দিয়েছিলেনএপি-পর্যালোচিত আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ওই মার্কিন কাজের কারণে পরিবারটি তালেবানের হুমকি পেয়েছিল। এক ভাই আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে কাজ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। আরেকজন, মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট, তালেবানের হাতে নিহত হন

হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের সাভি আরভে বলেন, ফ্লাইটটি ১২ জন আফগান, আটজন ইরানি, এবং নেপাল ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের নিয়ে বাংগুইয়ে অবতরণ করে। অধিকারকর্মীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায়ই গোপন তৃতীয়-দেশের চুক্তি ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষকে তাদের নিজস্ব দেশ নয়—এমন প্রায় দুই ডজন দেশে পাঠিয়েছে; দেশে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষিত মানুষের জন্য এটি একটি বিকল্প ব্যবস্থা। শনিবারের ফ্লাইটটি ছিল জুনের পর CAR-এ দ্বিতীয়

এই বাক্যগুলোই যাচাইকৃত নথির সম্পূর্ণ সারাংশ। নথিটির বাকি সবকিছু হলো তার অর্থ: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিচারিক সুরক্ষা আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়নি; মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা একটি পরিবারকে হুমকির মুখে এবং একজন পাইলটকে নিহত করার জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু পাইলটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া দেশে ওই গল্পের জীবিত কনিষ্ঠ সদস্যকে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল না; এবং বাংগুই এখন, জুনের পর দ্বিতীয়বারের মতো, এমন মানুষদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্য, যাদের যুক্তরাষ্ট্র দেশে পাঠাবে না এবং নিজের দেশেও রাখবে না।

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র আফগানদের গ্রহণ করায় আফগানিস্তানে পরিণত হয়নি। ইরান, নেপাল এবং নিকারাগুয়া-ও বাংগুইয়ের কাছাকাছি হয়ে যায়নি, কারণ তাদের নাগরিকরা একই কেবিন ভাগ করে নিয়েছিল। আফগান ন্যাশনাল আর্মি এবং মার্কিন প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর প্রতি তালেবানের আগ্রহও কমেনি, কারণ কনিষ্ঠ ভাইকে বিপরীত দিকে উড়িয়ে নেওয়া হয়েছিল। শনিবার যা বদলেছে তা হলো অবস্থান। যা বদলায়নি তা হলো সেই কারণ, যার জন্য একজন বিচারক আগেই বলেছিলেন আফগানিস্তান নয়নিপীড়নের আশঙ্কা, তালেবানের হুমকি, মার্কিন কাজ, জীবিত এক সৈনিক-ভাই, মৃত এক পাইলট-ভাই—এবং সেই কারণ, যার জন্য অধিকারকর্মীরা বলছেন হাজার হাজার মানুষ একইভাবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে: কারণ নিজ দেশে যাওয়ার পথ আইনত বন্ধ থাকলেও এবং প্রশাসন বিমানটি উড্ডয়ন করাতেই চাইলে একটি তৃতীয় দেশ হ্যাঁ বলবে।