USA · · 4 min read
নতুন এআই চুক্তি ঘোষণা ছাড়াই শেষ ট্রাম্প-শি বৈঠক
নেতারা তাঁদের আলোচনা প্রশংসা করলেও সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান বা ইরানের প্রতি চীনের সমর্থন নিয়ে প্রকাশ্যে নির্ধারিত অগ্রগতি খুব কমই হয়েছে।
CBS News-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উষ্ণ প্রকাশ্য মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁদের বৈঠক শেষ করেছেন, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অন্য কোনো বড় বিরোধ নিয়ে নতুন কোনো স্পষ্টভাবে ঘোষিত সমঝোতা হয়নি।
দুই নেতা তাঁদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, কয়েকটি বিষয়ে তাঁরা অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছেছেন। তবে কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সে সম্পর্কে কেউই বিস্তারিত জানাননি। তাঁদের আলোচনা হয় এমন এক সময়ে, যখন বাণিজ্যিক সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ, উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে, তাইওয়ান নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে এবং ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনে উদ্বেগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি Jamieson Greer বলেন, এই সফরে নতুন কোনো এআই চুক্তি হয়নি। তাঁর মতে, আরও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে একটি নিয়মিত যোগাযোগের চ্যানেল তৈরি হওয়া—যার মাধ্যমে দুই পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানাতে বা তথ্য বিনিময় করতে পারবে।
Greer বলেন, প্রায় এক মাসের মধ্যে আরেকটি এআই বৈঠক হবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন, যদিও বৈঠকটি কী নিয়ে হবে তা তাঁরা ঠিক করেননি। এই ব্যবস্থা দুই সরকারকে প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দিতে পারে, এমনকি উন্নত ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলতে থাকলেও এবং এআই কতটা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, সে বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও।
বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এরই মধ্যে সপ্তাহের শুরুতে দুই মাসের জন্য শুল্ক-যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে তাঁদের বাণিজ্য সংঘাত আরও বাড়ার ঝুঁকি কমেছে, কিন্তু CBS News জানায়, এটি বৃহত্তর কোনো বাণিজ্যিক সমঝোতার সমতুল্য নয়।
ট্রাম্প তুলনামূলকভাবে সীমিত এআই নিয়ন্ত্রণের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছেন, যাতে আমেরিকান কোম্পানিগুলো চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে দ্রুত এগোতে পারে। প্রযুক্তিটি নেতাদের আলোচ্যসূচির অংশ হবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ফলে নতুন কোনো চুক্তি ঘোষণা না হওয়াটি তাৎপর্যপূর্ণ। Greer-এর মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, তাৎক্ষণিক ফলটি ছিল বিষয়বস্তুর চেয়ে প্রক্রিয়াগত: ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য এখন দুই পক্ষের একটি ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু প্রকাশ্যে কোনো বড় অগ্রগতির কথা জানানো হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, বৈঠকে তিনি যা চেয়েছিলেন তার সবই অর্জিত হয়েছে, তবে কোন ফলাফলের কথা তিনি বলছেন তা ব্যাখ্যা করেননি। তিনি আরও ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে আমেরিকান কৃষকেরা উপকৃত হবেন এবং সফরটিকে দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন। শি বলেন, আলোচনায় বৃহত্তর সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে এবং নিজেকে ও ট্রাম্পকে দুই দেশের সম্পর্ক যৌথভাবে পরিচালনাকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন।
শি বলেন, বছরের শেষের দিকে Shenzhen-এ APEC সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী G20 বৈঠকে নেতারা আবার দেখা করতে পারেন। মে মাসে রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্পকে Beijing-এ আমন্ত্রণও জানান তিনি। এসব ভবিষ্যৎ বৈঠকের বিস্তারিত কর্মসূচি তৈরি হয়েছে কি না, নিবন্ধে তা উল্লেখ করা হয়নি।
তাইওয়ান নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতি অপরিবর্তিত
সফরে প্রকাশ্য কোনো নীতিগত পরিবর্তন না হওয়া আরেকটি বড় বিষয় ছিল তাইওয়ান। শির সফরের সময় সাংবাদিকেরা দ্বীপটি নিয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প কোনো জবাব দেননি।
চীনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত David Perdue বলেন, ওয়াশিংটনের অবস্থান বদলায়নি। তিনি Taiwan Relations Act, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তিনটি যৌথ ইশতেহার এবং তাইওয়ানকে দেওয়া ছয়টি আশ্বাসকে আমেরিকান নীতির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। Perdue বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার বিদ্যমান কাঠামোকে সমর্থন করে চলেছে এবং চীন যাতে এর ভাষা বা বিষয়বস্তু বদলাতে বাধ্য করতে না পারে, তা প্রত্যাখ্যান করছে।
নেতাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ কথাবার্তায় তাইওয়ান নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান বদলায়নি—পর্যবেক্ষকদের আশ্বস্ত করাই ছিল এসব মন্তব্যের উদ্দেশ্য। চীন দ্বীপটির ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব আইন ও নীতিগত নথির আওতায় দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার বজায় রেখেছে। CBS News জানায়, আলোচনা থেকে তাইওয়ান নিয়ে নতুন কোনো ব্যবস্থা আসেনি।
ইরানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ
Perdue আরও বলেন, ইরানের যুদ্ধপ্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত চীনা সহায়তা নিয়ে ট্রাম্প শির মুখোমুখি হয়েছিলেন। Perdue-এর মতে, ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে বলেন, এ ধরনের সমর্থন অগ্রহণযোগ্য। Perdue স্বীকার করেন, এর আগে সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বা অন্যান্য সরঞ্জাম ইরানে পৌঁছেছিল। তবে তিনি বলেন, চীনা কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা আর এ ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন না।
তিনি সাম্প্রতিক চীনা পদক্ষেপগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত দিকের অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে আনুষ্ঠানিক কোনো সমঝোতা হয়েছে বলে জানাননি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকের আগেও বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছিল।
CBS News আরও Wall Street Journal-এর একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ইরানি হামলায় তিনজন আমেরিকান সেনাসদস্য নিহত এবং অন্যরা আহত হওয়ার আগে চীনা সংস্থাগুলো ইরানকে জর্ডানের একটি ঘাঁটির উপগ্রহচিত্র সরবরাহ করেছিল। এক টেলিভিশন সাংবাদিক জানতে চাইলে, তেহরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করতে তিনি শিকে চাপ দিয়েছিলেন কি না, ট্রাম্প তার জবাব দেননি।
অমীমাংসিত বিরোধের পাশাপাশি প্রতীকী অঙ্গভঙ্গির মধ্য দিয়েও সফরটি শেষ হয়। শি, তাঁর স্ত্রী এবং ট্রাম্প দম্পতি National Archives পরিদর্শন করেন, যেখানে তাঁরা Declaration of Independence এবং Constitution দেখেন। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ট্রাম্প শিকে একটি bald eagle-এর ভাস্কর্য উপহার দেন এবং একটি বড় নতুন বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন; অতিথিদের নির্মাণস্থল দেখার আমন্ত্রণও জানান।
নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে শি দুই দেশের সহযোগিতার আগের সময়গুলোর কথা স্মরণ করেন, যার মধ্যে ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁদের অংশীদারত্ব এবং স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দিকে নিয়ে যাওয়া পদক্ষেপগুলো। তিনি এই সম্পর্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, দুই দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরস্পরকে সহায়তা করতে পারে। ট্রাম্পও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর জোর দেন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এসব অঙ্গভঙ্গি স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রচেষ্টাকে জোরালো করে। তবে সুনির্দিষ্ট ফলাফল সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য সীমিত থাকায় সম্পর্কের মূল পরীক্ষাগুলো—প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, বাণিজ্য, তাইওয়ান এবং ইরানের সঙ্গে চীনের লেনদেন—মূলত অপরিবর্তিতই রয়ে গেল।