Health · · 10 min read

৭০-এর বেশি বয়সীদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ৩০% কমায় স্ট্যাটিন

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, বিশ্বে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন কোলেস্টেরল কমানোর স্ট্যাটিন সেবনে ৭০ বছরের বেশি বয়সী অন্যথায় সুস্থ মানুষের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে এবং গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম। ৭৫ বছরের কম বয়সীদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে এবং যেকোনো বয়সে বড় ধরনের হৃদ্‌যন্ত্রের ঘটনার পর স্ট্যাটিন ইতিমধ্যেই প্রচলিত; তবে আগে কোনো ঘটনা না-ঘটা সুস্থ ৭০-প্লাস বয়সীদের ক্ষেত্রে এর উপকারিতা অস্পষ্ট ছিল। মোনাশের গবেষকেরা প্রায় ১০,০০০ জন ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্ককে—অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩,৪০০ জন জিপির মাধ্যমে যুক্ত করে—প্রতিদিন স্ট্যাটিন বা প্লাসিবো গ্রহণের জন্য র‌্যান্ডমাইজ করেন। প্রায় ছয় বছর ধরে অনুসরণে প্রথম বড় ধরনের কার্ডিওভাসকুলার ঘটনা ৩০% কমে, অর্থাৎ ৩৭ জন বয়স্ক ব্যক্তিকে চিকিৎসা করলে একটি ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। ফলাফল নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এবং জার্মানিতে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি কংগ্রেসে উপস্থাপিত হয়েছে। সহলেখক অ্যাডজাঙ্ক্ট প্রফেসর মার্ক নেলসন বয়সকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি-নির্ধারক হিসেবে গুরুত্ব দেন; প্রধান গবেষক অ্যাডজাঙ্ক্ট প্রফেসর সোফিয়া জুঙাস আশা করছেন নির্দেশিকাগুলো হালনাগাদ হবে। হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর টম মারউইক বলেন, ডিমেনশিয়ার হার ভিন্ন ছিল না—যা ভুল তথ্যের বিরোধিতা করে—তবে প্রতিবন্ধিতামুক্ত বেঁচে থাকা অপরিবর্তিত ছিল এবং ১৫%-এর বেশি অংশগ্রহণকারী চিকিৎসা বন্ধ করেন।

৭০ বছরের বেশি বয়সী সুস্থ মানুষের জন্য বিশ্বে প্রথম উত্তর

অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত বিশ্বে প্রথম একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন কোলেস্টেরল কমানোর স্ট্যাটিন গ্রহণে ৭০ বছরের বেশি বয়সী অন্যথায় সুস্থ মানুষের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে, এবং গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম—জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। ফলাফলটি কোনো গবেষণাগারের কৌতূহলমাত্র নয়। এটি এমন একটি ওষুধের বড় আকারের র‌্যান্ডমাইজড পরীক্ষা, যা ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের ওষুধের ক্যাবিনেটে রয়েছে; লক্ষ্য এমন একটি গোষ্ঠী, যাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা প্রমাণের তুলনায় দীর্ঘদিন বেশি সতর্ক থেকেছেন: এমন বয়স্ক মানুষ, যাদের এখনো বড় ধরনের হৃদ্‌যন্ত্রের ঘটনা ঘটেনি।

এই প্রেক্ষাপটটি গুরুত্বপূর্ণ। এই জনগোষ্ঠীর জন্য হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক কোনো বিমূর্ত ফলাফল নয়। এগুলো এমন ঘটনা, যা স্বনির্ভরতার অবসান ঘটায়, হাসপাতালের ওয়ার্ড পূর্ণ করে এবং প্রায়ই জীবনও কেড়ে নেয়। নতুন গবেষণা বলছে, প্রতিদিন প্রায় ছয় বছর স্ট্যাটিন গ্রহণে ৭০ বছরের বেশি বয়সী অন্যথায় সুস্থ মানুষের মধ্যে এমন প্রথম ঘটনার সম্ভাবনা ৩০% কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ওষুধগুলো নিয়ে জনপরিসরের বিতর্কে যে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়েছে, তা নিরাপত্তা-চিত্রে প্রাধান্য পায়নি।

গবেষণাটি অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত। এটিকে এ ধরনের একটি বিশ্বে প্রথম গবেষণা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে: অপেক্ষাকৃত কম বয়সী রোগীদের জন্য তৈরি কোনো পরীক্ষার পরবর্তী বিশ্লেষণ নয়, বরং সুস্থ বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে স্ট্যাটিনের উপকারিতা নিয়ে সরাসরি অনুসন্ধান। এখানে ব্যবহৃত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান। গবেষণাটি এখন একটি শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা জার্নালে প্রকাশিত এবং হৃদ্‌রোগবিদ্যার একটি বড় মঞ্চে উপস্থাপিত হয়েছে—এ ধরনের ফলাফল সাধারণত এভাবেই গবেষণাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসাক্ষেত্রে পৌঁছায়।

কী জানা ছিল—আর কী জানা ছিল না

ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে ৭৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এবং যেকোনো বয়সে বড় ধরনের হৃদ্‌যন্ত্রের ঘটনার পর স্ট্যাটিন ইতিমধ্যেই প্রচলিত। সংক্ষেপে বললে, এটিই প্রচলিত চিকিৎসার মানদণ্ড। আপনার বয়স পঁচাত্তরের কম এবং ডায়াবেটিস আছে, অথবা কোলেস্টেরল বেশি—স্ট্যাটিন নেওয়া স্বাভাবিক চিকিৎসা। আপনার আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়ে থাকলে—যেকোনো বয়সে—স্ট্যাটিন নেওয়া স্বাভাবিক চিকিৎসা। বিপর্যয়ের পরের চিকিৎসা, অর্থাৎ সেকেন্ডারি প্রিভেনশন, ধাঁধা ছিল না।

ধাঁধাটি ছিল পরবর্তী জীবনে প্রাথমিক প্রতিরোধআগে কোনো ঘটনা না-ঘটা সুস্থ ৭০-প্লাস বয়সীদের ক্ষেত্রে উপকারিতা অস্পষ্ট ছিল। অস্পষ্ট মানে ওষুধগুলো অকেজো প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। এর মানে হলো, সত্তর পেরিয়ে যাওয়া, এখনো ধমনিতে কোনো বড় সমস্যা না-দেখানো এবং বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী স্ট্যাটিন শুরু করার মতো কোনো রোগনির্ণয় না-থাকা মানুষের জন্য নির্দেশিকা ও চিকিৎসকেরা একটি পরিষ্কার র‌্যান্ডমাইজড উত্তর ছাড়াই কাজ করছিলেন।

বয়স নিজেই এই অনুমানকে জটিল করে তোলে। ধমনিগুলো শক্ত হয়। ঝুঁকি জমতে থাকে। যে ৭২ বছর বয়সী মানুষের কখনো হার্ট অ্যাটাক হয়নি, একই কোলেস্টেরল-মান থাকা ৪২ বছর বয়সী মানুষের মতো নন। সেই ব্যক্তিকে তরুণের মতো চিকিৎসা করা অতিরিক্ত আগ্রাসী মনে হতে পারে। আবার পরীক্ষার প্রমাণ অপেক্ষাকৃত কম বয়সে শেষ হয়ে গেছে বলে চিকিৎসা না-করা অতিরিক্ত সতর্কতা মনে হতে পারে। এই ঘাটতি দার্শনিক ছিল না; এটি ছিল প্রমাণভিত্তিক ঘাটতি। বড় আকারের র‌্যান্ডমাইজড তুলনা না-থাকা পর্যন্ত সতর্কতা ও আশাবাদ—উভয়ই অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করছিল।

নতুন পরীক্ষাটি এই ঘাটতি পূরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি জানতে চায়নি হার্ট অ্যাটাকের পর স্ট্যাটিন কাজ করে কি না। এটি জানতে চেয়েছে, আগে কোনো ঘটনা না-ঘটা, অন্যথায় সুস্থ ৭০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন স্ট্যাটিন গ্রহণে প্রথম হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের হার বদলায় কি না এবং তা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কম ঝুঁকি নিয়ে ঘটে কি না।

মোনাশ কীভাবে পরীক্ষাটি পরিচালনা করেছে

মোনাশের গবেষকেরা ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ১০,০০০ প্রাপ্তবয়স্ককে প্রতিদিন স্ট্যাটিন বা প্লাসিবো গ্রহণের জন্য র‌্যান্ডমাইজ করেন। র‌্যান্ডমাইজেশনই এই গবেষণাকে ক্লিনিকের বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা করে। প্রতিটি ব্যক্তিকে চিকিৎসকের অনুমান অনুযায়ী নয়, বরং দৈবচয়নের মাধ্যমে কোলেস্টেরল-কমানো ওষুধ বা দেখতে একই এমন নিষ্ক্রিয় বড়ি দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় অনুসরণের পর হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের পার্থক্য তখন কারা দুর্বল, আগ্রহী বা আগে থেকেই সুস্থ মনে হয়েছিল তার পরিবর্তে বরাদ্দ করা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করা যায়।

অংশগ্রহণকারী ছিল না কোনো তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালের অল্প কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক। অংশগ্রহণকারীদের অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩,৪০০ জন জিপির মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। এই নকশা অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ চিকিৎসাকেন্দ্রেই সুস্থ বয়স্ক মানুষ বাস্তবে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা পান। প্রায় ৩,৪০০ জন কমিউনিটি চিকিৎসকের মাধ্যমে নিয়োগ করা পরীক্ষা সেই পরিবেশে পৌঁছায়, যেখানে ভবিষ্যতের কোনো নির্দেশিকাকে কার্যকর হতে হবে। এইভাবেই এত বড় একটি গবেষণা সম্ভব হয়: ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ১০,০০০ মানুষ একাডেমিক কোনো একক ক্লিনিকে এসে হাজির হন না।

তুলনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে সরল ছিল। একটি দল প্রতিদিন স্ট্যাটিন গ্রহণ করেছে। অন্য দল নিয়েছে প্লাসিবো। প্রতিবেদনে তৃতীয় কোনো দল নেই, পরীক্ষামূলক তুলনা হিসেবে অতিরিক্ত হৃদ্‌রোগের ওষুধের কোনো মিশ্রণও নেই। প্রশ্নটি ছিল স্ট্যাটিনকে ঘিরে—প্রতিদিন গ্রহণ করলে, সত্তরের বেশি বয়সী অন্যথায় সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এর ফল কী।

অনুসরণ চলেছে প্রায় ছয় বছর। প্রতিরোধমূলক হৃদ্‌রোগবিদ্যা ধীরগতির কাজ। তৃতীয় মাসে যে হার্ট অ্যাটাক ঘটেনি, সেটি এখনো ফলাফল নয়। এত বড় একটি গোষ্ঠীতে প্রথম ঘটনাগুলো জমা হওয়ার জন্য এবং চিকিৎসা ছেড়ে দেওয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য রোগ প্রকাশ পাওয়ার জন্য প্রায় ছয় বছর যথেষ্ট দীর্ঘ সময়। কোনো ফল সত্যি হলে ৩০% আপেক্ষিক হ্রাসও এই সময়ে এমন সংখ্যায় পরিণত হয়, যা ক্লিনিক ব্যবহার করতে পারে—শুধু পরিসংখ্যানগত ক্ষণিক ঝলক নয়।

প্রথম ঘটনায় ত্রিশ শতাংশ হ্রাস

প্রায় ছয় বছরে প্রথম বড় ধরনের কার্ডিওভাসকুলার ঘটনা ৩০% কমেছে। শব্দচয়নটি নির্দিষ্ট। এগুলো ছিল প্রথম ঘটনা, আগে থেকেই করোনারি রোগ থাকা মানুষের দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিপর্যয় মিলিয়ে তৈরি কোনো ফল নয়। এই প্রতিবেদনে বড় ধরনের কার্ডিওভাসকুলার ঘটনা বলতে বোঝানো হয়েছে রান্নাঘরের টেবিলে বসে যে ফলাফলগুলো সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ: হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক। স্ট্যাটিন গ্রহণকারী দলে এমন ঘটনা কম ঘটেছে। হ্রাসের হার ছিল ৩০%

শুরুর ঝুঁকি খুব কম হলে আপেক্ষিক ঝুঁকি বিভ্রান্ত করতে পারে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফলাফলটি চিকিৎসকেরা যে সংখ্যাটি সহজে ব্যবহার করতে জানেন, তাতে রূপান্তর করা হয়েছে: প্রতি ৩৭ জন বয়স্ক ব্যক্তিকে চিকিৎসা করলে একটি ঘটনা প্রতিরোধ। এটিই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা। এই প্রমাণ অনুযায়ী, ৭০ বছরের বেশি বয়সী অন্যথায় সুস্থ ৩৭ জনকে প্রতিদিন স্ট্যাটিন দিলে অনুসরণকালীন সময়ে একটি প্রথম বড় ধরনের কার্ডিওভাসকুলার ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। ছত্রিশ জন বড়িটি গ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তি থাকেন না যার হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক প্রতিরোধ হয়েছে। একজনের ক্ষেত্রে হয়।

এই বিনিময় আকর্ষণীয় মনে হবে কি না, তা নির্ভর করে পরীক্ষায় পাওয়া গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কম ঝুঁকি এবং রোগী এমন একটি প্রথম হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক, যা কখনো ঘটেনি, তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন তার ওপর। এটি নিবিড় পরিচর্যার কোনো ওষুধ থেকে পাওয়া অলৌকিক অনুপাত নয়। প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা এমন অনুপাত গ্রহণ করে, যখন চিকিৎসাটি প্রতিদিনের একটি বড়ি, ক্ষতির সংকেত কম এবং যে ঘটনা প্রতিরোধ করা হচ্ছে তা অক্ষমতাজনক বা প্রাণঘাতী। তবে এর মানে এই নয় যে প্রতিটি বয়স্ক মানুষকে আগামীকালই স্ট্যাটিন শুরু করতে হবে। এটি একটি বিশ্বে প্রথম র‌্যান্ডমাইজেশন থেকে পাওয়া পরিমিত ফলন।

ঘটনাগুলো ছিল হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক—পরীক্ষার প্রকাশ্য সারাংশে নাম উল্লেখ করা দুটি ফলাফল। প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর স্টেন্ট বসাতে হতে পারে, হৃদ্‌যন্ত্রের পাম্প দুর্বল হতে পারে, এমনকি মৃত্যু ঘটতে পারে। প্রথম স্ট্রোকের ফলে একটি শব্দ, একটি অঙ্গ বা একটি জীবন হারিয়ে যেতে পারে। শুরুতে সুস্থ থাকা মানুষের মধ্যে এই প্রথম ঘটনাগুলো ৩০% কমেছে—দাবিটি সেটিই। বিদ্যমান ক্ষতি উল্টে দেওয়ার দাবি এটি নয়। অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করা হয়েছিল আগে কোনো ঘটনা না-ঘটা মানুষ হিসেবে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি-নির্ধারক হিসেবে বয়স

সহলেখক অ্যাডজাঙ্ক্ট প্রফেসর মার্ক নেলসন বয়সকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি-নির্ধারক হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন। সত্তরের বেশি বয়সী সুস্থ মানুষকে কেন চিকিৎসা করা হবে, সেই যুক্তির মূল কাঠামো এটাই। কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ এখনও গুরুত্বপূর্ণ। এই যুক্তিতে, একটি প্রথম ঘটনাকে সম্ভাবনা থেকে নিশ্চিততার দিকে ঠেলে দেওয়া শক্তিগুলোর মধ্যে বয়স এগিয়ে। যদি বয়সই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি-নির্ধারক হয়, তবে ডায়াবেটিস বা অত্যন্ত বেশি কোলেস্টেরল দেখা দেওয়া পর্যন্ত—অথবা হার্ট অ্যাটাক হওয়া পর্যন্ত—অপেক্ষা করা মানে ঝুঁকি ইতিমধ্যেই বেশি থাকা বছরগুলো পার করে দেওয়া।

নেলসনের বক্তব্য নতুন কোনো শারীরবৃত্ত নয়। ধমনির রোগ ক্রমে জমা হয়। কোনো ক্লিনিক্যাল ঘটনা ছাড়াই সত্তর পার করা মানুষের ক্ষেত্রে ক্যালেন্ডারের বয়স সেই সঞ্চয়ের একটি সারাংশ। পরীক্ষার জনসংখ্যা এই বয়সসীমা দিয়েই সংজ্ঞায়িত। ৭০ বছরের বেশি বয়সী অন্যথায় সুস্থ মানুষের মধ্যেই উপকারিতা দেখা গেছে, যা বয়সকে স্ট্যাটিন বিবেচনার কারণ হিসেবে দেখার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—স্ট্যাটিন না-দেওয়ার কারণ হিসেবে নয়।

প্রধান গবেষক অ্যাডজাঙ্ক্ট প্রফেসর সোফিয়া জুঙাস আশা করছেন নির্দেশিকাগুলো হালনাগাদ হবে। নির্দেশিকাই সাধারণ চিকিৎসকদের বলে দেয় কখন স্ট্যাটিন দরকার, কখন ঐচ্ছিক, আর কখন শুরু করার মতো উপযোগী নয়। বহু বছর ধরে ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে ৭৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এবং যেকোনো বয়সে বড় ধরনের হৃদ্‌যন্ত্রের ঘটনার পর নির্দেশিকাগুলো বেশি দৃঢ় ছিল। সুস্থ বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেগুলো কম দৃঢ় ছিল। জুঙাসের আশা, এই র‌্যান্ডমাইজেশন—প্রায় ১০,০০০ মানুষ, প্রায় ৩,৪০০ জিপি, প্রায় ছয় বছর, প্রথম ঘটনায় ৩০% হ্রাস—এই অপেক্ষাকৃত দুর্বল অনুচ্ছেদটি পুনর্লিখনের জন্য যথেষ্ট হবে।

নির্দেশিকা হালনাগাদ কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নয়। এর অর্থ হবে সাধারণ অস্ট্রেলীয়—এবং পরে আন্তর্জাতিক—প্রাথমিক চিকিৎসায় কারা প্রতিদিনের বড়ি নেওয়ার প্রস্তাব পাবেন, তার পরিবর্তন। এই কারণেই সাধারণ চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়োগ কোনো পাদটীকা নয়। রোগীদের নিয়োগকারী জিপিরাই যদি পরে হালনাগাদ নির্দেশিকা অনুসরণ করেন, তবে পরীক্ষাটি ইতিমধ্যেই ক্লিনিকের ভাষায় কথা বলছে।

ফলাফল **দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ প্রকাশিত এবং জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি কংগ্রেসে উপস্থাপিত** হয়েছে। এই দুটি স্থানই প্রতিরোধমূলক হৃদ্‌রোগবিদ্যার ফলাফলকে উপেক্ষা করা কঠিন করে তোলে। দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন এমন বড় ফলাফলভিত্তিক পরীক্ষা প্রকাশ করে, যখন সম্পাদকেরা পদ্ধতি ও গুরুত্বকে যথেষ্ট মনে করেন। ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি কংগ্রেস হলো সেই বার্ষিক সমাবেশ, যেখানে হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞরা মঞ্চ থেকে একই তথ্য শোনেন—এই ক্ষেত্রে জার্মানিতে—এবং পরদিন সকাল থেকে কী করা উচিত তা নিয়ে বিতর্ক করেন। প্রকাশনা ও উপস্থাপনা—এই দ্বৈত পথেই একটি অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত বিশ্বে প্রথম পরীক্ষা মোনাশ থেকে জুঙাস যে নির্দেশিকাগুলো হালনাগাদ হবে বলে আশা করছেন, সেখানে পৌঁছায়।

ডিমেনশিয়া, প্রতিবন্ধিতা এবং কারা বড়ি বন্ধ করেছেন

সব ফলাফল বদলায়নি। হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর টম মারউইক বলেছেন, ডিমেনশিয়ার হার ভিন্ন ছিল না—যা ভুল তথ্যের বিরোধিতা করে—তবে প্রতিবন্ধিতামুক্ত বেঁচে থাকা অপরিবর্তিত ছিল এবং ১৫%-এর বেশি চিকিৎসা বন্ধ করেছেন

ডিমেনশিয়ার ফলাফলটিই হৃদ্‌রোগবিদ্যার বাইরের জগতে সবচেয়ে বেশি ছড়াবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ভুল তথ্য হলো, স্ট্যাটিন মস্তিষ্ককে ঝাপসা করে দেয় বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। মারউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরীক্ষায় দুই দলের মধ্যে ডিমেনশিয়ার হার ভিন্ন ছিল না। এই প্রতিবেদনে গবেষণাটি দাবি করছে না যে স্ট্যাটিন ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করে। দাবি হলো, এই ফলাফলে কোনো শনাক্তযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষতি—বা শনাক্তযোগ্য উপকার—দেখা যায়নি। ৭০ বছরের বেশি বয়সী মানুষকে প্রতিদিন প্রায় ছয় বছর গ্রহণ করতে হওয়া একটি ওষুধের ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়ায় শূন্য ফলাফল একটি নিরাপত্তা-ফলাফল, জ্ঞানীয় ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি নয়। এটি সেই গুজবের সরাসরি জবাবও, যা কিছু বয়স্ক রোগী ও তাঁদের পরিবারকে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো বড়ি থেকে দূরে রেখেছে।

প্রতিবন্ধিতামুক্ত বেঁচে থাকা অপরিবর্তিত ছিল। সার্বজনীনভাবে বয়স্কদের স্ট্যাটিন দেওয়ার পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এটি অপেক্ষাকৃত কঠিন বাক্য। চিকিৎসা নেওয়া প্রতি ৩৭ জনে একটি ঘটনা প্রতিরোধ করা আর প্রতিবন্ধিতা ছাড়া বেঁচে থাকা বছর বাড়ানো এক বিষয় নয়। এই বয়সে প্রতিবন্ধিতার পথে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকই একমাত্র কারণ নয়। প্রতিবন্ধিতা ছাড়া বেঁচে থাকার যৌগিক ফল যদি না বদলায়, তবে পরীক্ষাটি একই সঙ্গে সংযত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলছে: প্রথম বড় ধরনের কার্ডিওভাসকুলার ঘটনা কমেছে, কিন্তু সব ধরনের প্রতিবন্ধিতা ছাড়া বেঁচে থাকার বছর বাড়ার প্রমাণ মেলেনি।

এরপর আসে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। ১৫%-এর বেশি চিকিৎসা বন্ধ করেছেন। প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনেরও বেশি নির্ধারিত চিকিৎসায় ছিলেন না। চিকিৎসা বন্ধ করা নিজে কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়। এটি বাস্তব জীবনের ঘর্ষণ: বড়ি না-খাওয়া, অ্যাপয়েন্টমেন্টে না-আসা, উপসর্গের জন্য ওষুধকে দায়ী করা, অথবা স্রেফ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কম ঝুঁকি থাকা একটি পরীক্ষায় ১৫%-এর বেশি বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ তবুও হলো, ৩০% ঘটনা-হ্রাস এমন একটি জনগোষ্ঠীতে অর্জিত হয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ চিকিৎসা সম্পূর্ণ করেনি। জিপির চেম্বারে কার্যকারিতা নির্ভর করবে কতজন রোগী বছরের পর বছর প্রতিদিনের স্ট্যাটিন চালিয়ে যান তার ওপর, শুধু কোনো জার্নাল টেবিলের intention-to-treat শতাংশের ওপর নয়।

মারউইকের তিনটি বক্তব্য একসঙ্গে দেখতে হবে। ডিমেনশিয়ার হার ভিন্ন ছিল না, যা ভীতির প্রচারণাকে দুর্বল করে। প্রতিবন্ধিতামুক্ত বেঁচে থাকা অপরিবর্তিত ছিল, যা অলৌকিকতার গল্পকে দুর্বল করে। ১৫%-এর বেশি চিকিৎসা বন্ধ করেছেন, যা নিখুঁতভাবে ওষুধ নেওয়ার কল্পনাকে দুর্বল করে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের উপকারিতা এই আরও জটিল ছবির মাঝখানে রয়েছে, তার বিকল্প হিসেবে নয়।

ফলাফলটি কী বদলায়—আর কী বদলায় না

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষাটি একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রমাণ বদলায়: ৭০ বছরের বেশি বয়সী, অন্যথায় সুস্থ, আগে কোনো ঘটনা না-ঘটা এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন প্রতিদিন কোলেস্টেরল-কমানো স্ট্যাটিন নেওয়া মূল্যবান কি না। সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার র‌্যান্ডমাইজেশন বলছে, প্রথম বড় ধরনের কার্ডিওভাসকুলার ঘটনা ৩০% কমেছে, চিকিৎসা নেওয়া ৩৭ জন বয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে একটি ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়, এবং গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি ছিল কম। নেলসনের ভাষায়, বয়স হলো সবচেয়ে বড় ঝুঁকি-নির্ধারক। জুঙাস আশা করছেন, নির্দেশিকাগুলো হালনাগাদ করার জন্য এখন এটিই যথেষ্ট।

এটি আগে যা সত্য ছিল তা মুছে দেয় না। ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে ৭৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে স্ট্যাটিন প্রচলিত থাকবে। যেকোনো বয়সে বড় ধরনের হৃদ্‌যন্ত্রের ঘটনার পর এগুলো নির্দেশিত থাকবে। এসব ব্যবহারের জন্য এই গবেষণার অপেক্ষা ছিল না। অপেক্ষা ছিল সেই সুস্থ বয়স্ক ব্যক্তির জন্য—যিনি কোনো করোনারি বা মস্তিষ্কজনিত বিপর্যয় ছাড়াই সত্তর পেরিয়েছেন এবং এমন কোনো রোগনির্ণয়ও পাননি, যার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বড়ি শুরু হয়ে যেত।

এটি রোগীরা যে সব ফলাফলকে ভয় পান বা আশা করেন, তার প্রতিটিও নতুন করে লিখে দেয় না। ডিমেনশিয়ার হার ভিন্ন ছিল না। প্রতিবন্ধিতামুক্ত বেঁচে থাকা অপরিবর্তিত ছিল। ১৫%-এর বেশি চিকিৎসা বন্ধ করেছেন। এগুলো সূক্ষ্ম অক্ষরে লেখা তথ্য নয়। একই ফলাফলের অংশ এগুলো। যে চিকিৎসক ৩০% হ্রাসের কথা বলবেন কিন্তু ডিমেনশিয়ায় শূন্য পার্থক্য, অপরিবর্তিত প্রতিবন্ধিতামুক্ত বেঁচে থাকা এবং চিকিৎসা বন্ধ করার হার উল্লেখ করবেন না, তিনি মোনাশের গবেষকেরা যে পরীক্ষাটি সত্যিই পরিচালনা করেছিলেন, সেটি ব্যবহার করছেন না।

প্রমাণের ভৌগোলিক উৎস অস্ট্রেলিয়া, কিন্তু শ্রোতা বিশ্বজুড়ে। ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ১০,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩,৪০০ জন জিপির মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন। গবেষণাপত্রটি দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ প্রকাশিত। উপস্থাপনাটি হয়েছে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি কংগ্রেসেদ্য গার্ডিয়ান এই সমগ্র ফলাফলকে বিশ্বে প্রথম হিসেবে প্রতিবেদন করেছে। কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়োগ, সাধারণ চিকিৎসাবিষয়ক একটি মর্যাদাপূর্ণ জার্নাল, হৃদ্‌রোগবিদ্যার কংগ্রেস এবং সংবাদপত্রের প্রতিবেদন—এই সমন্বয়েই একটি প্রতিরোধমূলক ফলাফল ছড়িয়ে পড়ে।

এই মুহূর্তে ক্লিনিক্যাল বাক্যটি পরামর্শদানের সময় বলার মতো সংক্ষিপ্ত, আবার সৎ থাকার মতো দীর্ঘ। ৭০ বছরের বেশি বয়সী অন্যথায় সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে একটি প্রতিদিনের স্ট্যাটিন হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়েছে। হ্রাসের হার ছিল ৩০%। চিকিৎসা নেওয়া প্রতি ৩৭ জনে একটি ঘটনা প্রতিরোধ হয়েছে। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল কমডিমেনশিয়ার হার দিয়ে মাপা স্মৃতিশক্তির ওপর কোনো শনাক্তযোগ্য মূল্য দিতে হয়নি। প্রতিবন্ধিতা ছাড়া বেঁচে থাকার বছর পরিমাপযোগ্যভাবে বাড়েনি। ১৫%-এর বেশি ওষুধটি বন্ধ করেছেন। জুঙাসের আশা অনুযায়ী নির্দেশিকাগুলো যদি হালনাগাদ হয়, তবে সেগুলোকে শুধু শিরোনামের ৩০% নয়, এই সব কটি শর্তই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

statinscholesterolheart attackstrokeover 70MonashNew England Journal of MedicinecardiovascularAustraliaguidelines

Continue reading

Read this in another language